Welcome Guest | Login | Signup


Tourism or Parjatan Place of Gazipur | Bangla
Untitled Document
অবসর সময়ে ভ্রমণ করুন ও দেশ সম্পর্কে জানুন - পর্যটনবিডি.কম

Description AboutTourism or Parjatan Place of Gazipur

এ পৃষ্ঠা থেকে ট্যুরিষ্ট বা পর্যটক গাজীপুর জেলার ভ্রমন তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারবে। যা তাদের ভ্রমনের ক্ষেত্রে কাজে আসবে। শুধু তাই নয় এখনকার প্রতিটি ভ্রমন স্থানের নামের সাথে একটি তথ্যবহুলভিডিও-এর হাইপারলিংক করা আছেযার মাধ্যমে ভিডিও দেখে স্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাবে ও ভ্রমণ সম্পর্কে তারা আগ্রহীহয়ে উঠবে।

জাগ্রত চৌরঙ্গী  

 
 


ঢাকা থেকে যাওয়ার পথে গাজীপুর শহরের কিছুটা আগে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম স্মারক  ভাস্কর্য  জাগ্রত চৌরঙ্গী। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে আত্মদানকারী হুরমত আলী ও অন্যান্য শহীদদের স্মরণে ১৯৭১ সালেই নির্মিত হয় এ ভাস্কর্যটি।

এর স্থপতি শিল্পী আব্দুর রাজ্জাক। ভাস্কর্যটি এক অস্ত্র উঁচিয়ে ধরা বলিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার। এর উচ্চতা প্রায় একশ ফুট। এর দুপাশের ফলকে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ২০৭ জন শহীদ সৈনিকের নাম খোদাই করা আছে।

ভাওয়াল রাজবাড়ি

 
 

গাজীপুর সদরে অবস্থিত এ রাজবাড়িটি। জমিদার লোক নারায়ণ রায় বাড়িটির নির্মাণ শুরু করলেও শেষ করেন রাজা কালী নারায়ণ রায়। বর্তমানে এ বাড়িটিতে স্থাপন করা হয়েছে জেলা পরিষদের কার্যালয়। বাড়িটি প্রায় পনের একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। ভবনের মূল প্রবেশপথের পরেই রয়েছে প্রশস্ত একটি বারান্দা এবং এরপরে একটি হলঘর। ওপরের তলায় ওঠার জন্য আগে ছিল শাল কাঠের তৈরি প্রশস্ত সিড়ি।

প্রসঙ্গত, শাল এ অঞ্চলের বনের প্রধান বৃক্ষ। ভবনের উত্তর প্রান্তে খোলা জায়গায় রয়েছে নাটমন্দির। রাজবাড়ির সব অনুষ্ঠান হতো এখানে। বাড়ির পশ্চিম অংশের দোতলা ভবনের নাম রাজবিলাস। এ ভবনের নিচে ছিল রাজার বিশ্রামাগার হাওয়ামহল। দক্ষিণ দিকে খোলা খিলানযুক্ত উন্মুক্ত কক্ষের নাম পদ্মনাভি। ভবনের দোতলার মাঝখানের একটি কক্ষ ছিল রানীমহল নামে পরিচিত। সুরম্য এ ভবনটিতে ছোটবড় মিলে প্রায় ৩৬০ টি কক্ষ আছে।

 

বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে পুরো অবিভক্ত ভারতবর্ষ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল ভাওয়াল রাজার এক নাটকীয় কাহিনী। ভাওয়াল জমিদারির তিন অংশীদারের অন্যতম কুমার রমেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর মামলা এ কাহিনীর বিষয়। আঞ্চলিক ইতিহাসের পাতায় এ কাহিনী স্থায়ী ঠাঁই করে নিয়েছে কোটি কোটি মানুষের কৌতূহল জাগানো এক ঘটনা হিসেবে।

 

সতের শতকের শেষ দিকে পূর্ববঙ্গের সবচেয়ে বড় ও পুরোনো জমিদারি ভাওয়াল এস্টেটের জন্ম। এ জমিদার পরিবার ১৮৭৮ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে রায় ও রাজা খেতাব লাভ করে। এ জমিদারির কেন্দ্র ছিল জয়দেবপুর। জমিদারির উত্তরাধীকারী রমেন্দ্র নারায়ণ রায় ১৯০৯ সালের এপ্রিলে স্ত্রী বিভাবতী দেবী, শ্যালক সত্যেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং একদল কর্মচারী ভৃত্যসহ চিকিৎসার জন্য দার্জিলিং যান। এক পর্যায়ে ভাওয়াল এস্টেটে খবর যায় যে অসুস্থ রমেন্দ্র নারায়ণ দার্জিলিংয়ে মারা গেছেন এবং সেখানেই তাঁকে দাহ করা হয়েছে। রমেন্দ্র নারায়ণের স্ত্রী, শ্যালক ও অন্যরা দেশে ফিরে আসেন।

এর প্রায় এগার বছর পরে ১৯২০ সালে রমেন্দ্র নারায়ণ সন্ন্যাসীবেশে ঢাকায় আবির্ভূত হন! অনেকে তাঁকে চিনতে পারলেও প্রথমে রাজা নিজ পরিচয় গোপন রাখেন। কিন্তু যারা চিনে ফেলেছিলেন তারা ১৯২২ সালে সন্ন্যাসরূপী রাজাকে ভাওয়ালে নিয়ে যান। রাজা তাঁর আসল পরিচয় ঘোষণা করেন। কিন্তু রাজ পরিবার তাঁকে রমেন্দ্র নারায়ণ বলে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা দাবি করেন রমেন্দ্র নারায়ণ ১৯০৯ সালেই দার্জিলিংয়ে মারা গেছেন এবং সেখানে তাঁকে দাহ করা হয়েছে।

সন্ন্যাসীবেশী রমেন্দ্র তাঁর উত্তরাধিকারের দাবিতে অটল থাকেন। কিন্তু নিজের স্ত্রী পর্যন্ত তাঁর পরিচয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে শেষ পর্যন্ত মামলা হয়। ১৯৩৫  সালে রমেন্দ্র নারায়ণ ঢাকা জজকোর্টে উত্তরাধিকার মামলাটি করেন। আদালতে রমেন্দ্র দাবি করেন তিনি শ্যালক সত্যেন্দ্রনাথ ও পারিবারিক চিকিৎসক আশুতোষ দাসগুপ্তের ষড়যন্ত্রের শিকার।

রমেন্দ্র নারায়ণ দাবি করেন তাঁকে সিফিলিসের চিকিৎসার জন্য ষড়যন্ত্র করে দার্জিলিং নিয়ে যাওয়া হয়। শ্যালক ও অন্যরা বিষপ্রয়োগ করে মেরে তাঁকে রাতের অন্ধকারে দ্রুত দাহ করার পরিকল্পনা করেন। বিষ খাওয়ানোর অল্প সময় পরই রমেন্দ্র মৃত ভেবে দাহ করতে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ শিলাঝড় শুরু হলে ভাড়া করা ডোমরা রমেন্দ্রকে ফেলে চলে যায়। বৃষ্টির ধারায় রমেন্দ্রর কিছুটা চেতনা ফিরে আসে।

এসময় একদল সন্ন্যাসী শ্মশানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে এ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তুলে নিয়ে সেবাশুশ্রূষা করেন। সন্ন্যাসীদের সেবায় রাজা বেঁচে উঠলেও বিষের প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। এরপর ১৯০৯ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত রমেন্দ্র ওই সন্ন্যাসীদের সঙ্গেই ঘুরে বেড়ান। ১৯২০ সালে সন্ন্যাসীদের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এলে হঠাৎ তাঁর স্মৃতিশক্তি ফিরে আসে। এরপর রমেন্দ্র নারায়ণ সন্ন্যাসী জীবন শেষ করার পরিকল্পনা করেন এবং সদরঘাটের বাকল্যান্ড বাঁধের এক পাশে থাকতে শুরু করেন।

দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণশেষে ১৯৩৭ সালের ২ ডিসেম্বর বিচারক রায় দেন যে সন্ন্যাসীই ভাওয়াল রাজ্যের সহঅংশীদার কুমার রমেন্দ্র নারায়ণ রায়। কিন্তু তাঁর স্ত্রী বিভাবতী এ রায় না মেনে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। কলকাতা হাইকোর্ট জেলা জজের রায় বহাল রাখে। ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা তখনকার সংবাদপত্রে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছিল। এ মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পরও নানা সময় গীত-গাথা, যাত্রাপালা, নাটক ও চলচ্চিত্রের উপজীব্য হয়েছিল ভাওয়াল রাজ্যের এই আলোড়ন তোলা কাহিনী।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

 

গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর থানা জুড়্বে অবস্থিত ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান। ১৯৭৩ সালে ৬৪৭৭ হেক্টর জমিতে এ উদ্যান গড়ে তোলা হয়। প্রধান বৃক্ষ শাল ছাড়াও নানারকম গাছগাছালিতে ভরা উদ্যানটি। এর ভেতরে বেশ কয়েকটি বনভোজন কেন্দ্র, ১৩ টি কটেজ ও ৬ টি রেস্ট হাউস আছে। উদ্যানের প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৬ টাকা।

সফিপুর আনসার একাডেমি  

 

জেলার কালিয়াকৌর উপজেলায় অবস্থিত আনসার-ভিডিপি (বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী) একাডেমির ছবির মতো সাজানো বিশাল অঙ্গনটিতে বেড়াতে ভালোই লাগবে। এখানে চলচ্চিত্র, টিভি অনুষ্ঠান ইত্যাদির শ্যুটিং হয়। অনুমতিসাপেক্ষে বনভোজন করারও ব্যবস্থা আছে।

নুহাশ পল্লী  

 
 

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের রিসোর্ট ও শ্যুটিং স্পট। প্রায় ৯০ বিঘা আয়তনের নুহাশপল্লীতে আছে শান বাঁধানো ঘাটসহ বিশাল দিঘি, মাঝে ছোট একটি দ্বীপ। দ্বীপে আছে নারকেল গাছের ছায়ায় গল্প করার ব্যবস্থা। দৃষ্টিনন্দন কটেজ, ট্রি হাউজসহ আরো অনেক আয়োজন।

 

বৃষ্টি বিলাস নামে একটি বিশাল বাংলো। চা বাগানের আদলে তৈরি বাংলোর চওড়া বারান্দায় শুয়ে বসে গল্পে অনায়াসে সময় কাটানো যায়। বড় ও ছোটদের জন্য আলাদা দুটি সুইমিং পুল। নুহাশপল্লীর সবচাইতে বড় আকর্ষণ হল দেশের বৃহৎ ঔষধি গাছের বাগান। দিনের পর দিন দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এসব গাছপালা। ১৯৭১ এর স্মারক হিসেবে একটি আম্রকানন আছে, যেখানে রয়েছে ৭১ রকমের ৭১ টি আম গাছ।

৬০০র মতো অতিথি অনায়াসে বনভোজন করতে সক্ষম নুহাশপল্লী ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে পিকনিকের জন্য ভাড়া দেয়া হয়। শ্যুটিংয়ের সময় ছাড়া বাকি নয় মাস যে কেউ কোনোরকম প্রবেশমূল্য ছাড়া ঘুরে দেখতে পারবেন নুহাশপল্লী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক

 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় মাওনা ইউনিয়নের বড় রাথুরা মৌজা সদর উপজেলার পীরুজালী ইউনিয়নের পীরুজালী মৌজার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কটি অবস্থিত। এর আয়তন হচ্ছে ৪৯০৯.০ একর। এ পার্কটি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল।  

এ সাফারি পার্কটিতে রয়েছে দেশী ও বিদেশী বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি ও অবাধ বিচরণের সুযোগ  ও পর্যটক বা ভ্রমণকারীরা যানবাহনে অথবা পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করে শিক্ষা, গবেষণা ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ লাভ করতে পারেন। এটি  চিড়িয়াখানা হতে ভিন্নতর। চিড়িয়াখানায় জীবজন্তু আবদ্ধ অবস্থায় থাকে, এখানে দর্শনার্থীরা মুক্ত অবস্থায় জীবজন্তু পরিদর্শন করতে পারেন। সাফারী পার্কে বন্যপ্রাণীরা উন্মুক্তভাবে বনজঙ্গলের মতই বিচরণ করে থাকে, সেজন্যই দর্শনার্থীদেরকে  সতর্কতার সহিত চলমান যানবাহনে চলাচল করতে হয়।

 
 

Important Tourism Information of Bangladesh

by md. abidur rahman | parjatanbd | A Home of Tourism | Information Written and Managed By : Shikha Reberio |  শিখা রিবেরু

Hotel of Bangladesh
Details>>

Related Links


Welcome
Address: Mohammadpur, Dhaka-1217
Mobile: , Webmail

All right reserved by : Parjatanbd.com | Design & Developed by : Web Information Services Ltd