Tourism or Parjatan Place of Narayanganj | Bangla 1 Printing View
Untitled Document
অবসর সময়ে ভ্রমণ করুন ও দেশ সম্পর্কে জানুন - পর্যটনবিডি.কম

Description AboutTourism or Parjatan Place of Narayanganj

এ পৃষ্ঠা থেকে ট্যুরিষ্ট বা পর্যটক নারায়ণগঞ্জ জেলার ভ্রমন তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারবে। যা তাদের ভ্রমনের ক্ষেত্রে কাজে আসবে। শুধু তাই নয় এখনকার প্রতিটি ভ্রমন স্থানের নামের সাথে একটি তথ্যবহুলভিডিও-এর হাইপারলিংক করা আছেযার মাধ্যমে ভিডিও দেখে স্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাবে ও ভ্রমণ সম্পর্কে তারা আগ্রহীহয়ে উঠবে।

হাজীগঞ্জ দুর্গ 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরের কিল্লারপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ দুর্গ। বাংলার বার ভুঁইয়াদের অন্যতম ঈশাখাঁর কেল্লা হিসেবেও অনেকের কাছে এটি পরিচিত। নদীপথে মগ ও পর্তুগিজদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য মীর জুমলার শাসনামলে নির্মিত বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। চতুর্ভুজাকৃতি এই দুর্গের প্রাচীরে রয়েছে বন্দুক বসিয়ে গুলি চালাবার ফোকর।

সোনাকান্দা দুর্গ
 

শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে অবস্থিত এ জল দুর্গটি। হাজীগঞ্জ দুর্গের প্রায় বিপরীত দিকেই এর অবস্থান। নদী পথে ঢাকার সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নদী পথগুলোর নিরাপওার জন্য মুঘল শাসকগণ কতগুলো জল দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম সোনাকান্দা দুর্গ ।

 

নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ  এলাকায় অবস্থিত এ মসজিদটি হাজীগঞ্জ মসজিদ নামেও পরিচিত। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি শায়েস্তাখান কর্তৃক ১৬৬৪-১৬৮৮ সালে নির্মিত বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। মসজিদের কাছে তাঁর কন্যা বিবি মরিয়মের মাজার রয়েছে বলেই মসজিদটির নাম বিবি মরিয়ম মসজিদ বলে অনেকে মনে করেন।

কদম রসুল দরগা  

 

নারায়ণগঞ্জ  শহরের বিপরীত দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে নবীগঞ্জে অবস্থিত কদম রসুল দরগা। এখানে মহানবী হজরত মোহাম্মদের (স.) কদম মোবারকের (পা) ছাপ সংবলিত একটি পাথর রয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায় সম্রাট অকবরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণাকারী আফগান নেতা মাসুম খান কাবুলী পদচিহ্ন সংবলিত এ পাথরটি একজন আরব বণিকের নিকট থেকে ক্রয় করেছিলেন। ঢাকার জমিদার গোলাম নবী ১৭৭৭-১৭৭৮ সালে এ সৌধটি নির্মাণ করেন। আর কদম রসুল দরগার প্রধান ফটকটি গোলাম নবীর ছেলে গোলাম মুহাম্মদ ১৮০৫-১৮০৬ সালে নির্মাণ করেন।

বন্দর শাহী মসজিদ 
 

কদম রসুল দরগা থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে বন্দর এলাকার অবস্থিত বন্দর শাহী মসজিদ। সুলতান জালালুদ্দীন ফতেহ শাহের পদস্থ কর্মচারী আর মালিক আল মুসজিদের ভেতরের দিকের পরিমাপ ৬.২ মিটার এবং বাইরের দিকে ৯.৭ মিটার। মসজিদটির চারকোণা চারটি ছোট মিনার ও উপরে বড় আকৃতির একটি গম্বুজ আছে।

শীতলক্ষ্যা নদী
 

নারায়ণগঞ্জের প্রধান নদী। এক সময় বিশ্ব সমাদৃত বাংলাদেশের মসলিম শিল্প গড়ে উঠেছিল শীতলক্ষ্যার দুই তীরে। এখন বিভিন্ন কলকারখানা পরিপূর্ণ নদীর দুই পাশ।

নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে শুরু করে কালীগঞ্জ পর্যন্ত দীর্ঘ পথ নৌ ভ্রমণে এখনো উপভোগ করা যাবে রূপসী বাংলার সৌন্দর্য ।

রূপগঞ্জ জামদানি পল্লী  
 

শীতেলক্ষ্যার তীরে রূপগঞ্জ থানার রূপসীতে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় জামদানি পল্লী। রূপসী বাজার ও এর আশপাশে শতশত জামদানি শিল্পী দিন-রাত তাঁতে বোনান নানা রকম শৈল্পিক জামদানি। তুলনামূলক কম দামে এখানে থেকে ভালোমানের জামদানি শাড়ি কেনা যায়।

জামদানি বাজার  
 

জেলার নোয়াপাড়ায় সপ্তাহের শুক্রবার শেষ রাত অর্থাৎ ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বসে জামদানি হাট। এ হাটটি মূলত পাইকারি ক্রেতাদের জন্য বসলেও উৎসাহী অনেক খুচরা ক্রেতা কমদামে আসল জামদানি পেতে জড়ো হন এ বাজারে।

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ মুড়া পাড়ায় রয়েছে প্রাচীন একটি জমিদার বাড়ি। বর্তমানে এ বাড়িতে চলছে মুড়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের কার্যক্রম। জমিদার বাড়ি সামনেই রয়েছে বিশাল আকৃতির পুকুর। প্রাচীন এ প্রাসাদটি বেশ আকর্ষণীয়। প্রায় ৯৫টি কক্ষ সংবলিত এ প্রাসাদে অতিথিশালা, নাচঘর, পূজামন্ডপ, কাছারিঘর,আস্তাবলসহ আরো বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত। জানাযায়, জমিদার রামা রতন ব্যানার্জি এর নির্মাণ শুরু করেছিলেন ১৮৮৯ সালে। ১৮৯৯ সালে তাঁর ছেলে বিজয় চন্দ্র এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন।

 
 

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি পাশেই বেসরকারি একটি বন ভোজন কেন্দ্র রাসেল পার্ক। নানা রকম গাছগাছালি ছাড়াও এখনো আছে ছোট একটি চিড়িয়াখানা। সপ্তাহের প্রতিদিনই সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি।

পন্ড গার্ডেন 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঞ্চনে অবস্থিত একটি পর্যটন কেন্দ্র পন্ড গার্ডেন। এখানে প্রায় ২৫ বিঘা জায়গা জুরে রয়েছে শিশু পার্ক ও অবকাশ যাপনের নানান আয়েজন।

লাঙ্গলবন্দ
 

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় তীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দ। প্রতি বছর চৈএ মাসের অষ্টমীতিথিতে এ জায়গায় ব্রক্ষপুএ নদে পুণ্য স্নান করতে দেশ বিদেশ থেকে হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সমাগম ঘটে। ভক্তদের বিশ্বাস, এ সময়ে ব্রক্ষপুএের জলে স্নান করতে পাপমোচন হয় এবং ব্রক্ষার সন্তুুষ্টি লাভ করা যায়।

অষ্টমী স্নান নিয়ে হিন্দু পুরাণে একটি কাহিনী আছ। অতীতকালে জমদগ্নি মহা মুনির রেনু কানা মেরাজ বংশী সুন্দরী স্ত্রী ছিল। তাঁর ছিল পাঁচপুত্র। ঘটনাক্রমে মার্তিকাবর্ত দেশের রাজাকে সস্ত্রীক জল বিহার করতে দেখে আশ্র বাশিনী রেনুকার কামস্পৃহা জাগে। স্ত্রীর অন্যের প্রতি এ আসক্তি দেখে মুনিক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর পাঁচ ছেলেকে তাঁদের মাকে হত্যা করার নির্দেশ দেন।

কিন্তু কোন ছেলেই মাতৃ হত্যার মতো জঘন্য কাজে রাজি হননা। তখন মুনি তাঁর প্রিয় ছেলে সবার ছোট পরশুরামকে নির্দেশ দেন। পরশুরাম কুঠারের আঘাতে মাকে হত্যা করেন। কিন্তু মাকে হত্যা করার পর পাপের শাস্তি হিসেবে কুঠারটি তাঁর হাতে আটকে থাকে। শত চেষ্টাতেও পরশুরা হাত থেকে কাঠার ছাড়াতে না পারলে পিতা তাঁকে কোন তীর্থ স্থানে গিয়ে পাপ মুক্ত হতে বলেন। তীর্থে তীর্থে ঘুরতে থাকেন অনুতপ্ত পরশুরাম। এক সময় তিনি জানতে পারেন ব্রহ্মপুত্রের জলে পাপ মুক্তি হয়। পরশুরাম হিমালয়ে লুক্কায়িত ব্রহ্মপুত্রের উৎস হ্রদটি খুঁজে বের করে  তাতে ঝাঁপ দেওয়া মাত্রই তাঁর হাতে আটকে থাকা কুঠার খসে পড়ে।

ব্রহ্মপুত্রের এই অলৌকিক শক্তি সম্পন্ন জলসব মানুষের উপকারে আনার জন্য পরশুরাম এ জলধারাকে সমতলভূমি তেনিয়ে আসার সঙ্কল্প করেন। তিনি খসে পড়া কুঠারটি লাঙ্গলের বেঁধে নালা সৃষ্টি করে ব্রহ্মপুত্রের পবিত্র জলধারাকে হিমালয় থেকে সমতল ভূমিতে নিয়ে আসেন। পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জের এ স্থানটিতে এসে ক্লান্ত হয়ে লাঙ্গল চাষা বন্ধ করেন। এ কারনেই জায়গায়টির নাম হয়েছে লাঙ্গলবন্দ।

ব্রহ্মপুত্রের কাছে সুন্দরী শীতলক্ষ্যার রূপ-যৌবনের কথা পৌঁছলে শক্তিশালী ব্রহ্মপুত্র প্রচন্ড বেগে শীতলক্ষ্যার দিকে ধাবিত হয়। ব্রহ্মপুত্রের ভয়াল মূর্তি দেখে সুন্দরী শীতলক্ষ্যা তার সব সৌন্দর্য আড়াল করে নিজেকে বিগত যৌবনা বুড়িগঙ্গা রূপে উপস্থাপন করেন। ব্রহ্মপুত্র বুড়িগঙ্গা রূপী শীতলক্ষ্যার এই হতশ্রী চেহারা দেখে মর্মাহত হন।

কিন্তু রেগে গিয়ে বুড়িগঙ্গার অবগুণ্ঠন উন্মোচন করলে দেখেন শীতলক্ষ্যার প্রকৃত সৌন্দর্য। ব্রহ্মপুত্র শীতলক্ষ্যার রূপে মুগ্ধ হয়ে তার সঙ্গে মিলিত হন। দুজনের স্রোতধারা মিলিত হয়ে এক ধারায় প্রবাহিত হতে থাকে। এ দিকে পরশুরাম তীর্থ যাত্রা থেকে ফিরে এসে মানুষের উপকারের জন্য সমতলে নিয়ে আসা ব্রহ্মপুত্র শীতলক্ষ্যায় মিলিত হয়েছে দেখে তাকে অভিশাপ দেন। তখন ব্রহ্মপুত্র পরশুরামকে তাঁর পাপ মোচনের কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি নরম হন।

তবে ব্রহ্মপুত্রের পাপ মোচনের অলৌকিক শক্তি কমিয়ে দিয়ে শুধু বছরের একটি দিনেই সে শক্তি অক্ষুণ্ন রাখেন পরশুরাম। আর সেদিনটিই হল চৈত্র মাসের অষ্টমীতিথি। বিভিন্ন সময়ে দানশীল মানুষ নদী তীরে বেশ কয়েকটি ঘাট নির্মান করে দেন। বতর্মানে প্রেমতলা ঘাট, অন্নপূর্ণা ঘাট, গান্ধী ঘাট, জয়কলী ঘাট, পাঠান কালী ঘাট, ভাতেরশ্বরী, শ্রীরামপুর ঘাট, কালী বাড়ী ঘাট, রাজ ঘাট, কালীদহ ঘাট, শঙ্কর ঘাট, শিকরী ঘাট ও রাখা কালী ঘাট নামে তেরটি শান বাঁধানো ঘাট আছে। কাছাকাছি আছে প্রায় দশটি মন্দির ও আশ্রম। অষ্টমী স্নানের সময় ছাড়া ও সারা বছরই কমবেশি হিন্দুপূণ্যার্থীরা এখানে আসেন। চৈত্র মাসের স্নানের সময় এখনে তিন-চার দিন ধরে মেলা বসে।

সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের কবর

 


নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগড়া পাড়ায় বাংলার স্বাধীন সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের কবর। পাথরে তৈরি এ সমাধি সৌধটি ১৪১০ সালে নির্মিত হয়। সুলতান প্রান ত্যাগ করেন ১৪০২ সালে। এ কবরের পূর্ব পাশের ইট নির্মিত কবরটি সুলতানের প্রধান বিচারপতি কাজী সিরাজ উদ্দীনের বলে অনুমান করা হয়।

Page 1   Page 2
 

Important Tourism Information of Bangladesh

by md. abidur rahman | parjatanbd | A Home of Tourism | Information Written and Managed By :
 

Welcome