Tourism or Parjatan Place of Naogaon | Bangla Printing View

Important Tourism Information of Bangladesh

Tourism or Parjatan Information of Naogaon District
by md. abidur rahman | parjatanbd | A Home of Tourism
Information Written and Managed By : Shahina Akter  | সাহিনা আক্তার
 

Description AboutTourism or Parjatan Place of Naogaon 

এ পৃষ্ঠা থেকে ট্যুারিষ্ট বা পর্যটক নওগাঁ জেলার ভ্রমন তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারবে। যা তাদের ভ্রমনের ক্ষেত্রে কাজে আসবে। শুধু তাই নয় এখনকার প্রতিটি ভ্রমন স্থানের নামের সাথে একটি তথ্যবহুলভিডিও-এর হাইপারলিংক করা আছেযার মাধ্যমে ভিডিও দেখে স্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাবে ও ভ্রমণ সম্পর্কে তারা আগ্রহীহয়ে উঠবে।

 
ছোট যমুনা
নওগাঁ শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ছোট্ট সুন্দর নদী ছোট যমুনা। ভারতের জলপাইগুঁড়িতে উৎপন্ন এ নদীটি রাজশাহীর উত্তর-পূর্বে আত্রাই নদীতে গিয়ে মিলেছে। নদীটি একসময় বেশবড় থেকলেও বর্তমানে অনেকটা সংকীর্ণ হয়ে এসেছে।
 
গাঁজা সোসাইটি
ব্রিটিশ আমলে নওগাঁ সদর এলাকা, মহাদেবপুর ও বদলগাছী ছিল গাঁজা চাষের জন্য বিখ্যাত। গাঁজা চাষের সুবিধার্থে এ তিন থানাসহ অন্যান্য থানাকে নিয়ে প্রায় ১২০ বছর আগে রাজশাহী জেলার অধীনে গঠন করা হয় নওগাঁ মহকুমা। গাঁজা সোসাইটির বর্তমান ভবন নওগাঁ শহরের প্রাচীনতম স্থাপনাগুলোর একটি। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত দি নওগাঁ গাঁজা গ্রোয়ার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড সংক্ষেপে গাঁজা সোসাইটির এ অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা ছিল। শহরের প্রণকেন্দ্রে অবস্থিত গাঁজা সোসাইটির প্রাচীন সেই ভবন।
দুবলহাটি জমিদারবাড়ি
নওগাঁ সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অনস্থিত জমিদার জগৎরাম রাজপরিবারের আবাস্থল। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে নির্মিত এ জমিদারবাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন বেহালদশা। ইট-সুরকিতে নির্মিত এ বাড়িতে আছে সুরমা প্রাসাদ, দুর্গা মন্দির, রঙ্গমঞ্চ। বাড়ির মূল ভবনটিতে কমপক্ষে একশটি কক্ষ আছে। এ ছাড়া করুকাজময় বারান্দা, রঙিন কাচের অলঙ্করণ, নানান ধরনের ভাস্কর্য এ জমিদার বাড়ির প্রধান আকর্ষণ।
 
বলিহার রাজবাড়ি
জেলা সদর থেকে প্রায় সতের কিলোমিটার দূরে বলিহার গ্রামে অবস্থিত। জানা যায়, সম্রাট আওরঙ্গজেবের কর্তৃক জায়গির লাভ করে বলিহারের জমিদারগণ এ এলাকায় নানান স্থাপনা গড়ে তোলেন। বলিহার রাজবাড়ি এর মধ্যে অন্যতম। তবে সংরক্ষণের অভাবে এ জমিদারবাড়িটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে।
 
কুসুম্বা মসজিদ
নওগাঁ জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে মান্দা জেলার কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত দেশের উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুসুম্বা মসজিদ। এর আরেক নাম কালাপাহাড়। মসজিদের প্রাধান প্রবেশ পথের ওপর স্থাপিত আরবি শিলালিপি আনুসারে মসজিদটি ৯৬৬ হিজরি তথা ১৫৫৮-৫৯ সালে নির্মিত। শেরশাহ শুরির শাষণামলের শেষ দিকে সুলতান গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহর রাজত্বকালে জনৈক সুলাইমান মসজিদটি নির্মাণ করেন। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মসজিদটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইটের তৈরি এ মসজিদের ভেতর ও বাইরের দেয়াল পাথরের আস্থরণ দিয়ে আবৃত। মসজিদের পূর্ব দিকে তিনটি ও উত্তর-দক্ষিণে একটি করে প্রবেশ পথ আছে। পশ্চিম দেয়ালে আছে দুটি মিহরাব। উত্তর-পশ্চিম কোনে আছে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্ম। ধারণা করা হয় সমাজের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা এখানে নামাজ আদায় করতেন। মসজিদের মিহরাবগুলো খোদাই করা পাথরের নকশায় পরিপূর্ণ। নওগাঁ থেক বাসে আসা যায় কুসুম্বা মসজিদে।
 

পাহাড়পুর
নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার। এ বিহারের আরেক নাম সোমপুর বিহার। নওগাঁ শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬৪ কিলোমিটার। বহুকাল ধরে মাটিচাপা পড়ে থাকা এই বৌদ্ধবিহারটি বেশ কয়েকবার প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে আবিষ্কৃত হয়েছে। ইতিহাস থেকে যানা যায়, পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল আনুমানিক ৭৮০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৮২১ খ্রিস্টাব্দে এই বিহার ও মন্দির নির্মাণ করেন। যুগ যুগ ধরে এর ধ্বংসাবশেষের ওপর মাটিচাপা পড়ে বিশাল আকৃতির পাহাড়ে রূপ নেয়। আর এ কারনেই এর নাম হয় পাহাড়পুর। হিমালয়ের দক্ষিণের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ বিহার হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা হয়। উত্তর ও দক্ষিণে ৯২২ ফুট এবং পূর্ব ও পশ্চিমে ৯১৯ ফুট বিস্তৃত এই বিহারের চারপাশে ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১৩ ফুট প্রস্থের ১৭৭টি কক্ষ আছে। ধারণা করা হয় এসব কক্ষে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন। বিহারের উত্তর দিকে এক সারিতে ৪৫টি এবং অপর তিন সারিতে ৪৪টি করে কক্ষ ছিল।

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের ভেতরের উন্মুক্ত স্থানের কেন্দ্রস্থল রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্দির। প্রায় ২৭ বর্গমিটার জায়গার ওপর এ মন্দিরটির ধ্বংসাবশেষের উচ্চতা প্রায় ২১ মিটার। মন্দিরটি ক্রুশাকৃতির এবং তিন ধাপে ক্রমাহ্রাসমান ঊর্ধ্বগামী। মন্দিরের দেয়াল রয়েছে নানারকম পোড়ামাটির ফোলকচিত্র। পাহাড়পুর খননের সময় প্রাপ্ত নানান নিদর্শন নিয়ে একটি জাদুঘর আছে পাহাড়পুর কমপ্লেক্স ঢুকতেই। এর শীতকালীন সময়সূচি হল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। সোমবার পূর্ণদিবস, সোমবার অর্ধদিবস এবং অন্যান্য ছুটির দিনে এটি বন্ধ থাকে। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২২ তম বিশ্ব ঐতিহ্য। ১৯৮৫ সালে এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। নওগাঁ থেকে পাহাড়পুরের দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার। শহরের বালুডাঙ

 
হলুদ বিহার
জেলা সদর থেক আঠার কিলোমি
টার উত্তরে বদলগাছী থানার বিলাসবাড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত প্রাচীন প্রত্নস্থল হলুদ বিহার। স্থানীয়ভাবে দ্বীপগঞ্জ নামে পরিচিত এ গ্রামটিতে নানান প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। ১৯৭৬ সালে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণার পর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৪ ও ১৯৯৩ সালে এখানে খনন কাজ করে। ফলে প্রতি পাশে ৫.৮ মিটার দীর্ঘ বর্গাকার একটি ভিত্তি উন্মোচিত হয়। খননের ফলে প্রাপ্ত বিভিন্ন নিদর্শন থেকে হলুদ বিহারকে পাহাড়পুর ও সীতাকোট বিহারের সমসাময়িক কালের বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞগণ।
 
জগদ্দল মহাবিহার
জেলার ধামুইরহাট উপজেলায় অবস্থিত প্রত্নস্থল জগদ্দল মহাবিহার। পাল রাজাদের আমলে নির্মিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে এটি উল্লেখযোগ্য। জানা যায়, রামপালের রাজত্বকালে (১০৭৭-১১২০) জগদ্দল মহাবিহার নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৬ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে এখানে এই প্রাচীন বৌদ্ধবিহারের অংশবিশেষ আবিষ্কৃত হয়।
নওগাঁর বালুডাঙ্গা বাস স্টেশন থেকে বাসে ধামুইরহাট উপজেলা সদরে, সেখান থেকে আবার বাস কিংবা টেম্পোতে জগদ্দল মহাবিহার আসা যায়।
 
ভিমের পান্টি
জেলার ধামুইরহাট উপজেলায় আরেকটি প্রাচীন নিদর্শন গরুড়স্তম্ভ, স্থানীয়ভাবে যা ভিমের পান্টি নামে পরিচিত। পাল রাজা নারায়ণ পালের শাসনামলে খ্রিস্টীয় দশম শতকে বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে এ স্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়। কালো পাথরে নির্মিত এ স্তম্ভটির ওপরের অংশ ভাঙা, যেখানে আগে একটি গরুড় মূর্তি ছিল। জানা যায়, বজ্রপাতের ফলে কোনো এক সময়ে মূর্তিটি ভেঙে যায় এবং স্তম্ভটি একদিকে কিছুটা হেলে পড়ে।
 
মাহীসন্তোষ 
জেলার পত্নীতলা উপজেলায় অবস্থিত প্রত্নস্থল। জনশ্রুতি আছে এক দরবেশ মাছের পিঠে চড়ে এ স্থানে এসেছিলেন। মানুষের কাছে তিনি মাহীসওয়ার নামে পরিচিত লাভ করেন। তার নামানুসারে এ জায়গার নাম মাহীসন্তোষ। আর অন্যমতে প্রথম মহীপালের নামানুসারে এ জায়গার নামকরণ হয়। এখানে একটি প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র ও একটি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ আছে। এ ছাড়া দুটি প্রাচীন বড় পুকুর আছে এ এলাকায়।
 
ধীবর দিঘি
জেলার পত্নীতলা উপজেলার আরেকটি দর্শনীয় জায়গা ধীবর দিঘি। এ দিঘির মাঝখানে আছে দিব্যক বিজয়স্তম্ভ। দ্বাদশ শতকে পাল শাসক দ্বিতীয় মহীপালকে যুদ্ধে পরাজিত করে কৈবত রাজা দিব্যক বিজয়ের নিদর্শন হিসেবে এ দিঘি খনন করে এর মাঝখানে বিজয়স্তম্ভটি স্থাপন করেন। পাথরের তৈরি স্তম্ভটির উচ্চতা ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি। পানির নিচের অংশ ২৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। নওগাঁ বালুডাঙ্গা বাস স্টেশন থেকে বাসে পত্নীতলার নজিপুরের ধীবর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে রিকশায় ধীবর দিঘি।
 
পতিসর কাছারিবাড়ি
জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে আত্রাই উপজেলার পতিসরে নাগর নদীর তীরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের জমিদারির কালিগ্রাম পরগনার সদর কাছারি ছিল এখানে। রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকনাথ ঠাকুর ১৮৩০ সালে এ জমিদারি ক্রয় করেন। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং জমিদারি দেখশোনার জন্য ১৮৯১ সালে সর্বপ্রথম পতিসরে আসেন।
পতিসরের দোতলা কাছারিবাড়ি অনেকটা শিলাইদহ ও শাহজাদপুরের কুঠিবাড়ির অনুরূপ। বাড়ির সামনের প্রশস্ত খোলা মাঠ নাগর নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯০৫ সালে তিনি পতিসর কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৩ সালে কবি পতিসরে প্রতিষ্ঠা করেন কালীগ্রাম রবীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউট। বিভিন্ন সময়ে এখানে অবস্থানকালে কবি রচনা করেন তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু সাহিত্যকর্ম। ১৯২১ সালে জমিদারি ভাগ হলে পতিসর রবীন্দ্রনাথের ভাগে পড়ে। কিন্তু নানান ব্যস্ততার কারণে পতিসরের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। শেষবারের মতো তিনি পতিসরে আসেন ১৯৩৭ সালে। রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে বর্তমানে সংরক্ষিত আছে কবির অনেক স্মৃতিময় নিদর্শন। প্রতি বছর ২৫ বৈশাখ কবির জন্মদিনে এখানে নানান অনুষ্ঠান এবং লোকজ মেলা চলে আসছে বহু বছর ধরে।


অবসর সময়ে ভ্রমণ করুন ও দেশ সম্পর্কে জানুন - পর্যটনবিডি.কম

 

 

 

Welcome