Tourism or Parjatan Place of Rajshahi | Bangla Printing View
Untitled Document
অবসর সময়ে ভ্রমণ করুন ও দেশ সম্পর্কে জানুন - পর্যটনবিডি.কম

Description AboutTourism or Parjatan Place of Rajshahi

এ পৃষ্ঠা থেকে ট্যুরিষ্ট বা পর্যটক রাজশাহী জেলার ভ্রমন তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারবে। যা তাদের ভ্রমনের ক্ষেত্রে কাজে আসবে। শুধু তাই নয় এখনকার প্রতিটি ভ্রমন স্থানের নামের সাথে একটি তথ্যবহুলভিডিও-এর হাইপারলিংক করা আছেযার মাধ্যমে ভিডিও দেখে স্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাবে ও ভ্রমণ সম্পর্কে তারা আগ্রহীহয়ে উঠবে।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর  

 

রাজশাহী ভ্রমনের শুরুতেই দেখে নিন বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। এ অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে একটা ধারণা মিলবে। রাজশাহী সদর হাসপাতালের সামনেই পাবেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন এ সংগ্রহশালা। নাটোরের দিঘাপাতিয়ার জমিদার শরৎ কুমার রায়, আইনজীবী অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় এবং রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক রামাপ্রাসাদ চন্দ্র প্রমুখের চেষ্টায় ১৯১০ সালে এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৬ সালে মূল জাদুঘর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল। ১৯৬৪ সালে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের দায়িত্ব বর্তায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। আটটি গ্যালারিতে প্রায় দেড় হাজার প্রস্তর ও ধাতব মূর্তি, দুই হাজারেরও বেশি প্রাচীন মুদ্রা, প্রায় এক হাজার পোড়ামাটির ফলক ছড়াও নানান নিদর্শন প্রদর্শিত হচ্ছে এ জাদুঘরে

জাদুঘরের প্রথম গ্যালারিতে দেখতে পারেন সিন্ধু সভ্যতার (খ্রি. পূর্ব ২৫০০) প্রত্নসম্পদ, পাহাড়পুর খননে প্রাপ্ত প্রত্নসম্পদ, ফারসি ফরমান ও বাংলা দলিলপ্রত্র, পুরোনো বাংলা হরফে সংস্কৃত লিপি, ইসলামি রীতির ধাতব তৈজসপত্র, হাতে লেখা কোরআন শরিফ, বাংলা ও সংস্কৃতি পাণ্ডুলিপি, মুঘল চিত্রকলা, পাথর ও ব্রোঞ্জ নির্মিত বিভিন্ন ভাস্কর্য, বিহারের নালন্দা ও ভারতের অন্যান্য স্থানে প্রাপ্ত প্রাচীন নিদর্শনাবলি।

দ্বিতীয় গ্যালারিতে আছে বৌদ্ধ ও হিন্দু দেবদেবীর প্রস্তর মূর্তি, কাঠের আধুনিক ভাস্কর্যসমূহ।

তৃতীয় গ্যালারিতে রয়েছে হিন্দু ভাস্কর্য, সূর্যমূর্তি, গনেশমূর্তি, বিষ্ণুমূর্তি।

চতুর্থ গ্যালারির দর্শনীয় বিষয়গুলো হল বিভিন্ন সময় ও রূপে দুর্গা, গৌরী, উমা, পার্বতী, মাতৃকা, চামুণ্ডা প্রভৃতি দেবীর মূর্তি।

পঞ্চম গ্যালারিতে রয়েছে বুদ্ধমূর্তি, বোধিসত্ত্ব, দারা, জৈন, তীর্থঙ্কর এবং হিন্দু ধর্মের গৌণ দেবদেবীর মূর্তি। জাদুঘরের ষষ্ঠ গ্যালারিটি সাজানো হয়েছে আরবি, ফারসি, সংস্কৃত এবং প্রাচীন বাংলা প্রস্তরলিপি, মুসলিম যুগের খোদাই করা পাথর, মসজদের মিহরাব, অলঙ্কৃত চৌকাঠ, শেরশাহ আমলের কামান প্রভৃতি দিয়ে।

জাদুঘরের বারান্দার উপরের সারিতে রয়েছে পাহাড়পুরে প্রায় পোড়ামাটির ফলকসমূহ এবং নিচের সারিতে স্থান রয়েছে পাহাড়পুরে প্রাপ্ত পোড়ামাটির ফলকসমূহ এবং নিচের সারিতে স্থান পেয়েছে হিন্দু ও বৌদ্ধ ভাস্কর্য। এ ছাড়া জাদুঘর প্রাঙ্গণে রয়েছে প্রাচীন হিন্দু ও মুসলিম সভ্যতার নানা নিদর্শন

এপ্রিল থেকে অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা এবং নভেম্বর থেকে মার্চ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি। শুক্রুবার খোলা থাকে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতিবার। এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত ছুটির দিনে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর বন্ধ থাকে।

 

শাহ মখদুমের (র.) মাজার 
 

রাজশাহী কলেজের কাছে দরগাপাড়ায় রয়েছে প্রখ্যাত সুফি দরবেশ শাহ মখদুমের (র.) মাজার। ১২৮৭ সালে তিনি বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আসেন। ১৩১৩ সালে চিরকুমার এ দরবেশ মৃত্যুবরণ করেন। আলী কুলী বেগ ১৬৩৫ সালে তাঁর মাজারের ওপর এক গম্বুজবিশিষ্ট সৌধ নির্মাণ করেন। প্রতি বছর আরবি মাসের ২৭ রজব এখানে ওরস অনুষ্ঠিত হয়। আর ১০ মহরম এখান থেকে বের হয় তাজিয়া মিছিল।

 

রাজশাহী শহরের পাশে পদ্মার তীরে ইংরেজি টি আকৃতির বাঁধ এখন শহরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। পদ্মার শীতল বাতাসের পরশ দিতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। চাইলে নৌকা ভাড়া করে পদ্মার চরেও ঘুরে আসা যায়।

স্মৃতি অম্লান  

 

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধটি রাজশাহীর কেদ্র স্থলে শঈদ ক্যান্টেন বীরশ্রেষ্ঠ জাগাঙ্গীর সড়কের দ্বীনে ভদ্রা এলাকায়। ১৯৯১ সালের ২৬ শে মার্চ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্মৃতি অম্লানের নির্মাণ ও স্থপত্যিক নকশার নির্দেশনা দেন স্থপতি রাজিউদ্দিন আহমদ। স্মৃতিসৌধটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সৌধে মোট তিনটি স্তম্ভ আছে। প্রতিটি স্তম্ভের গায়ে ২৪টি করে ধাপ। ধাপগুলোতে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত আন্দোলনের ক্রমবিবর্তন ও স্বাধীনতা প্রতিফলিত হয়েছে । মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের নির্দেশ করা হয়েছে স্তম্ভের গায়ে ৩০টি ছিদ্রের মাধ্যমে। প্রতিটি স্তম্ভে রয়েছে ১০ টি করে ছিদ্র। বেদিমূলে রাখা আছে নীল শুভ্র পাথরের আচ্ছাদন, যা দুই লাখ নির্যাতিত নারীর বেদনাময় আর্তির কথা ইঙ্গিত করে। সৌধের চূড়ায় রয়েছে লাল গোলকে বাংলাদেশের মানচিত্র, যা স্বাধীনতা যুদ্ধের উদীয়মান লাল সূর্যের প্রতীক।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস 
 

রাজশাহী শহরের পাশে অবস্থিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছায়া ঘেরা ক্যাম্পাসে বেড়াতে ভালো লাগবে সবার।

পুঠিয়া রাজবাড়ি 

 

রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পূর্ব দিকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত পুঠিয়া রাজবাড়ি। বিশাল এ রাজবাড়িটি রানী হেমকুমারী দেবী তার শাশুড়ি মহারানী শরৎসুন্দরী দেবীর সম্মানার্থে ১৮৯৫ সালে নির্মাণ করেন। সংস্কারের অভাবে দিনে দিনে জৌলুস হারাচ্ছে এ ভবনটি। বর্তমানে লস্করপুর ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এ ভবনটি। ভবনের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে রানী পুকুর ও শিবসাগরসহ রয়েছে কয়েকটি দিঘি। আছে পোড়ামাটির ফলকে অলঙ্কৃত বেশ কিছু মন্দির।

গোবিন্দ মন্দির

 

পুঠিয়া রাজবাড়ির পাশেই প্রাচীরের ভেতরে পোড়ামাটির অলঙ্করণে সমৃদ্ধ একটি মন্দির। বর্গাকারে নির্মিত এ মন্দিরের প্রত্যেক পাশের দৈর্ঘ্য ১৪.৬ মিটার। কেন্দ্রীয় কক্ষ ছাড়াও মন্দিরটির চারপাশে বর্গাকার চারটি কক্ষ আছে। মন্দিরটি ২৫০ বছরের পুরোনো বলে প্রচলিত থাকলে ও এর গায়ে চিত্র ফলক দেখে ধারণা করা হয় যে এটি ঊনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত।

শিবমন্দির 

 

পুঠিয়া রাজবাড়ির প্রবেশপথে বিশাল আকৃতির মন্দিরটি পরিচিত পুঠিয়া শিবমন্দির নামে। পুথিয়ার রানী ভুবন মোহিনী দেবী ১৮২৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ৬৫ ফুট দীর্ঘ শিবমন্দিরটি একটি উঁচু ভিতের ওপর নির্মিত এনং এর চার কোনায় চারটি আর কেন্দ্রে একটি রত্ন আছে। মন্দিরের দোতলায় একটি মাত্র কক্ষ এবং কক্ষের চারপাশে দুই স্তরে বারান্দা বিদ্যমান। মূল কক্ষের ভিতরে অধিষ্ঠিত আছে কষ্টিপাথরের বিশাল এক শিবলিঙ্গ। পুরো মন্দিরের দেয়ালজুড়ে পৌরাণিক কাহিনীচিত্রখচিত। এটিকে এশিয়ার সবচেয়ে বড় শিবমন্দির বলা হয়। শিবমন্দিরের পূর্ব পাশে লাগোয়া গোল গম্বুজ আকৃতির আরেকটি ছোট মন্দির আছে।

বাঘা মসজিদ  

 

রাজশাহী সদর থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে বাঘায় অবস্থিত ইট নির্মিত প্রাচীন মসজিদ। প্রায় ২৩.১৬ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১২.৮০ মিটার প্রস্থের এ মসজিদটির ছাদ ১৮৯৭ সালের ভুমিকম্পে ধসে যায়। পরবর্তী সময়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ গম্বুজসহ ছাদটি পুননির্মাণ করে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে প্রচুর পোড়ামাটির ফলক। মসজিদের ভেতরে  উত্তর-পশ্চিম কোণে একটু উঁচুতে নির্মিত একটি বিশেষ নামাজ কক্ষ আছে। ধারণা করা হয় কক্ষটি শুধু সুলতানের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। গভর্নরের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বর্তমানে করাচিতে সংরক্ষিত মসজিদের প্রধান প্রবেশপথের ওপরের শিলালিপি অনুযায়ী সুলতান নসরত শাহ মসজিদটি ১৫২৩ সালে নির্মাণ করেন। মসজিদের পূর্ব পাশে আছে বিশাল আকৃতির একটি দিঘি। রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন থেকে ত্রিশ মিনিট পরপর বাঘার উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়া।

বড় আহিক্রক মন্দির

পুঠিয়া রাজবাড়ির পশ্চিম পাশে দিঘির রয়েছে পূর্বমূখী বড় আহিক্রক মন্দির। কারুকার্যখচিত এ মন্দিরের নির্মাণশৈলী বেশ আকর্ষণীয়।

গোপাল মন্দির

বড় আহিক্রক মন্দিরের পাশে দক্ষিণমূখী অবস্থানে দেখবেন গোপাল মন্দির। ১৬.৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.৪৭ মিটার প্রস্তের এ মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৮ কিলোমিটার।

দোলমঞ্চ

পুঠিয়া রাজবাড়ির ঠিক সামনে মাঠের বিপরীত পাশে রয়েছে চার তলাবিশিষ্ট দোলমন্দির। সোলমঞ্চের আকারে মন্দিরটি ধাপে ধাপে ওপরে উঠে গেছে। চতুর্থ তলার ওপরে আছে গম্বুজাকৃতির চূড়া। প্রত্যেক তলার চারপাশে আছে টানা বারান্দা। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশক পুঠিয়ার রানী হেম কুমারী দেবী এ মন্দির নির্মাণ করেন।

খাবারদাবার

রাজশাহী শহরে খাবারের জন্য বেশ কিছু মানের রেস্তোরাঁ আছে। উল্লেখযোগ্য দুএকটি হল হোটেল রহমানিহয়া, হোটেল মুক্তা। এসব রেস্তোরাঁয় দেশী খাবার মিলবে। এ ছাড়া সাহেববাজারের চিলিস ও এরিদ্বোকর‍্যাট রেস্টুরেন্টে ভালো মানের খাবার মিলবে। সাহেববাজারের রাজশাহী মিষ্টিবাড়িতে মিলবে ভালো মানের মিষ্টান্ন।

 
 

Important Tourism Information of Bangladesh

by md. abidur rahman | parjatanbd | A Home of Tourism | Information Written and Managed By : Kazi Tarana Haque | কাজী তারানা হক
 

Welcome